চৌকাঠ ডিঙিয়ে
৳199
বই সম্পর্কে
মেয়েদের কলমে যখন উঠে আসে মেয়েদের কথা, তখন তার ভেতরেও লুকিয়ে থাকে পিতৃতান্ত্রিক সমাজকাঠামোর নির্মাণ-বিনির্মাণের এক অন্যতর স্বর। ধৈতব-ঋষভের শুদ্ধতায় সে সুর হয়ে ওঠে আহির ভৈরবের ঠাঁট। রোজকার ক্যাকোফনির মধ্যে সেই ঘুমভাঙানিয়া গান মন বা মাথা কোনওটাকেই ঠিক কব্জা করতে পারে না। কব্জা করতে পারলে তখনই লেখা হয় লিঙ্গসাম্যের তথাকথিত তাত্ত্বিক-সামাজিক অবস্থানকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করানোর মতো কিছু দাস্তান। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরিখে নারীদের তাত্ত্বিক অবস্থান নিয়ে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে কাজ করে চলেছেন সরোজিনী সাহু। পাশ্চাত্যের থেকে কোথায় আলাদা হয়ে যায় ভারতীয় উপমহাদেশে নারীবাদের ডিসকোর্স- এ নিয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপনের চেয়ে সরোজিনী বেছে নিয়েছেন জীবন ঘনিষ্ঠ, আপাত সাদামাঠা কিছু গল্পগাছা। পার্কস্ট্রিট, দিল্লি, কামদুনি কিংবা হাথরস-কোনওটাই নিছক অ্যাক্সিডেন্টাল ইনসিডেন্ট নয়। বরং এর বীজ পোঁতা সমাজের গভীরতর স্তরে। পারিবারিক গণ্ডির রোজনামচার মধ্যে। এই নিমতেতো সত্যিটা আরও একবার ঝালিয়ে নেওয়ার জন্য এই বই। শেহরা মির্জা, মাহসা আমিনি, সাক্ষী মালিক কিংবা আমি এবং আপনিও যে ভীষণ ভাবে একটা লিঙ্গচিহ্নিত পরিসরের বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া মানুষ- সেটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার জন্যই এই অনুবাদ সংকলন।
লেখক পরিচিতি
ড. সরোজিনী সাহু ওড়িয়া ভাষার একজন অগ্রগণ্য কথাশিল্পী ও নারীবাদী লেখক। মাতৃভাষা ওড়িয়ার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাতেও তিনি লেখালেখি করেন। ২০০৯ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত কিনডল পত্রিকা তাঁকে ভারতের ২৫ জন ব্যতিক্রমী মহিলার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। নারীমুক্তি, যৌনতা ইত্যাদি সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট ও সাহসী মন্তব্য এবং এক বিশিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির জন্য সমালোচকেরা তাঁকে ভারতের সিম দ্য বোভোয়া নামেও অভিহিত করেছেন। সাহিত্যকৃতির জন্য তিনি ওড়িয়া সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার, ভুবনেশ্বর বুক ফেয়ার পুরস্কার, প্রজাতন্ত্র পুরস্কার, লাডলি মেডিয়া পুরস্কার সহ অনেকগুলো বিশিষ্ট পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এপর্যন্ত ওড়িয়া ভাষায় তাঁর দশটি উপন্যাস, দশটি ছোটোগল্প সংকলন এবং ইংরেজি ভাষায় দুটি গল্পসংকলন, একটি উপন্যাস ও একটি প্রবন্ধসংকলন প্রকাশিত হয়েছে। হিন্দি, মালয়ালামসহ ভারতের অন্যান্য ভাষায়ও তাঁর উপন্যাস ও গল্প অনূদিত হয়েছে। তাঁর জীবন নিয়ে দিল্লি দূরদর্শন 'লিটারারি পোস্টকার্ড' নামে একটি তথ্যচিত্র সম্প্রচার করেছে।